বাড়তি যাত্রী নিয়ে চলছে স্পিডবোট, ভাড়াও দ্বিগুণ

করো'না সংক্রমণ রোধে সরকারি ‘বিধিনিষেধকে’ পুঁজি করে পটুয়াখালীতে নদী পারাপারে স্পিডবোটে দিগুণ ভাড়া নেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে অ'তিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। নেই কোনো নিরাপত্তার সরঞ্জাম। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘ'টনার আশ'ঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজে'লার কোড়ালীয়া-গলাচিপার বোয়ালিয়া ও কোড়ালীয়া-পানপট্টী রুটে যাত্রীদের কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে স্পিডবোট চলাচল করছে। ১২০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। ১০ জনের বেশি যাত্রী নিলেও লাইফ জ্যাকেট দেয়া হয় মাত্র তিন-চারটি। আবার অনেকগুলোতে লাইফ জ্যাকেটও নেই।

এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ফেসবুকে রাঙ্গাবালী

উপজে'লার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ফাহিম হোসেন লেখেন, ‘প্রতিবাদ করি জনস্বার্থে! বোয়ালিয়া, পানপট্টি টু কোড়ালিয়া স্পিড বোট ঘাটে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। ১০০টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। দেয়া হচ্ছে না কোনো লাইফ জ্যাকেট। আমি গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজে'লা প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দ্রুত জনগণকে এই হয়'রানি থেকে মুক্তি দেবেন।’

স্পিডবোটে পার হয়ে উপজে'লার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের রিফাত মাহমুদ বলেন, ‘লকডাউনের নামে ডা'কাতি করছে এরা। সব কিছুই স্বাভাবিক তাহলে লকডাউন কি করলো?’

উপজে'লার বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তানভীর মিয়া বলেন, ‘আমি জানতাম ১২০ টাকা ভাড়া। তাই কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতে গিয়ে ১২০ টাকা দিলাম। কাউন্টারের লোক বলে ভাড়া ২০০ টাকা । প্রতিবাদ করলে তারা খুব বাজে ব্যবহার করেন। তাদের দাবি- এখন লোক ১০ জন তাই ভাড়া দিগুণ। কিন্তু বোটে ওঠার পর দেখলাম সব কিছু আগের মতোই। ১০ জনের অধিক যাত্রী আর চারটি লাইফ জ্যাকেট দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কোড়ালীয়া-বোয়ালিয়া রুটের কোড়ালীয়া ঘাটের কাউন্টার ম্যানেজার কালু মৃধা বলেন, ‘আম'রা আগে নিতাম

১৮ জন করে। আর এখন করো'নার কারণে লোক নেই ১০ জন করে। ভাড়া নেই ২০০ টাকা করে। তবে আমাদের সরকারি চার্টে ১২০ টাকা। ১১০ টাকা বোট ভাড়া আর ১০ টাকা ঘাট ভাড়া। এখন করো'না তাই লোক কম নিই, এ জন্য ভাড়াও বাড়িয়ে নিই।’

পটুয়াখালী জে'লা প্রশাসক মো. মতিউল ইস'লাম চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমা'র কাছে অ'ভিযোগ এসেছে। গলাচিপা উপজে'লা প্রশাসন ও রাঙ্গাবালী উপজে'লা প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

পটুয়াখালী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘ঝুঁ'কিপূর্ণভাবে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করার জন্য আম'রা এরইমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি।’

Back to top button