শুধু মমতাই নন, নিজের আসনে হেরেও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন অনেকে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধান নিয়ে জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নিজ দলের জয় হলেও নিজের আসন নন্দীগ্রামে হেরেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। ভা'রতের সংবিধান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসতে হলে কিছু নিয়ম পালন করতে হবে। অন্যথায় আসন শূন্য হবে।

ভা'রতীয় সংবিধানের ১৬৪ (৪) নং ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়। তবে মসনদে বসার ছয় মাসের মধ্যে তাকে অন্য কোনো আসন থেকে জিতে আসতে হবে।

এখন অনেকের প্রশ্ন, ভোটে হারার পর মমতার ভাগ্য তাহলে কী' হবে? তিনি কি টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন? এ নিয়ে ভা'রতের সংবিধান কী' বলছে? সংবিধানে যাই থাকুক না কেন, এর আগেও কিন্তু পরাজিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার নজির রয়েছে ভা'রতে।

নির্বাচিত বিধায়ক না হয়েও সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেন তিরথ সিং রাওয়াত।

এছাড়া ১৯৫২ সালে মুম্বাইতে বিধানসভা নির্বাচনে দাপটে কংগ্রেস নেতা মোরারজি দেশাইকে হারতে হয়েছিল। এরপর মুম্বাই কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদেও বসেন।

অ'পরদিকে একই বছর নির্বাচনে না লড়েই মাদ্রাজের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সি গোপালাচারী। হেরে যাওয়ার ভ'য়ে তিনি নির্বাচনে লড়াই করেননি। পরে রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য হন। শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর গদিতেও বসেন।

১৯৭০ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ত্রিভুবন নারায়ণ সিং নির্বাচনে হেরে যান। এরপর ৬ মাসের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনেও বসেছিলেন। পরে অবশ্য উপনির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০০৯ সালে ঝাড়খণ্ডে পরাজিত হন শি'বু সোরেন। তারপরও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ৬ মাস পর ফের মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের চাপে শেষপর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর সঙ্গে হারলেও ক্ষমতায় আসতে বাধা নেই মমতার।সেক্ষেত্রে রাজ্যের কোনো আসন থেকে নির্বাচিত হতে হবে। কোনো বিধায়ক আসন ছেড়ে দিলে সেখান থেকে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাকে জয়ী হতে হবে। তবে এবারে কোনো বিধায়ক পদ ছাড়তে নাও হতে পারে। কারণ প্রার্থী মা'রা যাওয়ায় কয়েকটি আসনে নির্বাচন হয়নি। সেখানে তৃণমূলের মা'রা যাওয়া প্রার্থীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তা কাজে লাগিয়ে নির্বাচিত হতে পারেন।

Back to top button