বাবার দাফন-জানাজাতেও থাকতে পারলেন না সিরাজ

সিডনিতে রয়েছেন ভা'রতীয় পেসার মোহাম্ম'দ সিরাজ। সেখানেই উড়ে এল জীবনের চরম খা'রাপ খবর। বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সিডনিতেই কোচ রবি শাস্ত্রী' এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছ থেকেই দুঃসংবাদ শুনলেন। এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। করো'নার মাঝে কোয়ারেন্টিনের নিয়মে বাবার জানাজা ও দাফনে যোগ দিতে পারবেন না সিরাজ। আসতে পারবেন না ভা'রতে।

দীর্ঘদিন ধরেই সিরাজের বাবা মোহাম্ম'দ গাউস অ'সুস্থ ছিলেন। হায়দরাবাদের এক হাসপাতা'লে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। সেখানেই মৃ'ত্যু হয় সিরাজের বাবার। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

বাবার মৃ'ত্যুর খবরে ভেঙে পড়লেও বাবার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চান সিরাজ। তিনি জানান, “বাবার ইচ্ছা ছিল যে ছে'লে দেশকে গর্বিত করবে, আমি তা করার চেষ্টা করব। বাবার মৃ'ত্যুর খবর আমা'র কাছে বড় ধাক্কা। আমা'র সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হারালাম। দেশের হয়ে আমি খেলছি এই স্বপ্ন দেখতেন বাবা।”

তিনি আরো জানিয়েছেন ছোট থেকেই ক'ষ্ট করে তাঁকে বড় করেছেন বাবা। সিরাজ খেলা ভালোবাসতেন বলে নিজের সবটুকু দিয়ে সাহায্য করেছেন ছে'লেকে। বাবার স্বপ্ন কিছুটা সত্যি করতে পেরেছেন তিনি। তবে শেষ সময়ে বাবার কাছে না থাকতে পারার যন্ত্র'ণা ঘিরে ধরেছে তাঁকে। তিনি জানিয়েছেন বিরাট কোহলি এবং রবি শাস্ত্রী' মানসিকভাবে সব সময় তাঁর পাশে রয়েছেন। গোটা টিম এই খা'রাপ সময়ে সিরাজের পাশে দাঁড়িয়েছে।

আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসেননি সিরাজ। তাই পরিবারের ক'ষ্ট, বাবার ল'ড়াইটা তিনি বুঝতে পারেন পুরোপুরি। বাবা মোহাম্ম'দ গাউসের অটোরিকশা চালানোর ক'ষ্টের টাকায় সংসারের খরচের পাশাপাশি চলতো সিরাজের ক্রিকেট অনুশীলন।

কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরুপ সিরাজ যখন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার হয়ে অর্থ উপার্জন শুরু করেন, সবার আগে বাবাকে মুক্তি দেন অটোরিকশা চালকের জীবন থেকে, পরিবারের জন্য বানান নতুন একটি বাড়ি। কিন্তু সেই ক্রিকে'টের কারণেই এবার বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে পারলেন না সিরাজ, থাকা হলো না জানাজা-দাফনের সময়ও।

Back to top button