দুই রাকাত নামাজ পড়ার জন্য ২০৬ কি.মি. পথ পাড়ি দেন ৮২ বছরের আবুল!

টানা ৬৪ ঘন্টা সাইকেলের প্যাডেল মেরে ২০৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২ রাকাত জুম্মার নামাজ আদায়ে উদ্দেশ্যে মগুড়া জেলা থেকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর সদরের আল আমান বাহেলা খাতুন জামে এসেছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ আবুল হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে থেকে ওই বৃদ্ধকে দেখতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছে তরুণরা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়।

এদিকে বুধবার আসরের নামাজের পূর্বে তিনি মসজিদে এসে পৌছাঁন। এসময় উপস্থিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে স্বাগতম জানান।

জানা যায়, মাগুড়া জেলার আঠারোখাদা গ্রামের আবুল হোসেন শেখ গত দুই সপ্তাহ আগে নান্দনিক কারুকার্য সম্পন্ন ও দৃষ্টিনন্দন আল আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই মসজিদে এসে জুম্মার নামাজ আদায় করবেন। সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গত সোমবার ফজরের নামাজ আদায় শেষে মগুড়া থেকে সাইকেল চালিয়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এসে পৌঁছান। ব্যক্তি জীবনে বৃদ্ধ আবুল হোসেনের স্ত্রী, ৪টি পুত্র সন্তান ও ৫ কন্যা সন্তান রয়েছে।

আবুল হোসেন শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ফেসবুকে এই মসজিদের ভিডিও দেখি। দেখার পর থেকে মসজিদটা স্ব চোখে দেখার ও জুম্মার নামাজ আদায় করতে ইচ্ছে হয়। ঐ ইচ্ছে পূরণের জন্য গত সোমবার ফজর পড়ে সাইকেল নিয়ে বের হই। আল্লাহ তায়া সহিসালামতে বুধবার আসরের সময় পৌঁছে দিয়েছেন। এখন সুস্থ আছি। রাস্তায় দুদিন কেটেছে, রাত যাপন করেছি। এখানের আসার পর সবাই আমাকে অনেক সমাদর করছেন। আল্লাহ চাইলে শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দশ্যে আবারও সাইকেল চালিয়ে যাত্রা করবো। তবে জীবনের শেষ ইচ্ছে বায়তুল্লাহ জিয়ারতে যাওয়ার। সেটা তো আর সাইকেল নিয়ে যাওয়া যাবে না।

বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিন হাসান রকি ও সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃদ্ধ আবুল হোসেনের ২০৬ কিলোমিটার সড়ক পথে প্রচন্ড শীতে বাই সাইকেল চালিয়ে মসজিদ দেখতে ও নামাজ পড়তে আসায় তাকে দেখতে যান। এসময় জায়নামাজ, পাঞ্জাবি, ব্লেজার সহ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ দেন আবুল হোসেনকে।

এবিষয়ে আল আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা গোলাম কিবরিয়া জানান, আবুল হোসেনের ৮০ বছর বয়সে যে ভাবে সাইকেল চালিয়ে সুদূর মাগুড়া থেকে এখানে নামাজ পড়তে এসেছে এটা আমি মনে করি এটা সম্ভব হয়েছে ইমানী শক্ত থাকার কারণে। ইমানি শক্তি না থাকলে এই বয়সে এতোপথ শুধু সাইকেল চালিয়ে আসা সম্ভব হতো না। আমি উনি সহ সকলের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি আল্লাহ যেন সকল মুসলমানের ইমানি শক্তি বাড়িয়ে দেন।

উল্লেখ্য- ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুকুন্দগাতী গ্রামের শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার বেলকুচি পৌরভবন সংলগ্ন দক্ষিণে আড়াই বিঘা জমির ওপর তার ছেলে আল-আমান ও মা বাহেলা খাতুনের নামে আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে নয়নাভিরাম এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণে সময় লেগেছে চার বছর। শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ শ্রমিক কাজ করেছেন।

রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার এ মসজিদ কমপ্লেক্সসহ বাহেলা খাতুন চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে এলাকার অসহায় দুস্থ রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন।

Back to top button