ইউএনওর নিষেধ অমান্য করে কিশোরীকে বিয়ে করলেন পুলিশ সদস্য

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যশোরের চৌগাছায় স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ের বয়স বেশি দেখিয়ে বাল্যবিয়ে করেছেন আশাদুজ্জামান পিকুল (২৮) নামে পুলিশের এক সদস্য। কনের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে রবিবার (১৪ আগস্ট) যশোর নোটারি পাবলিকের হলফনামার (এফিডেভিট) মাধ্যমেকনের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে বিয়ে করেন তিনি। পুলিশ সদস্যের এমন কাণ্ডে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বর্তমানে ওই পুলিশ সদস্য সাতক্ষীরার সদর থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই উপজেলায় বাল্যবিয়ের ঘটনায় কনের বাবা, দাদা, নানা ও বরের মামাসহ চারজনকে ৬ মাস ও ৯ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একজন পুলিশ সদস্য কীভাবে এই বাল্যবিয়ে করলেন; এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিবাহের ঘোষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর সদর কাজী অফিসের মাধ্যমে তারা এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেছেন। অ্যাফিডেভিটে সাদিয়ার জন্ম তারিখ ২০০৪ সালের ১৯ মে দেখানো হয়েছে। যদিও ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ইস্যু করা জন্মনিবন্ধন সনদে সাদিয়ার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা রয়েছে ২০০৬ সালের ১৯ মে।

জানা যায়, গত ৩ আগস্ট উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের বড় ছেলে তৌহিদুর রহমান নয়নের সঙ্গে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১৭ বছর বয়সী এক মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক ছিল। ৬ আগস্ট উপজেলার সলুয়া গ্রামের তাইজুল ইসলামের স্কুলপড়ুয়াসাদিয়ার সঙ্গে বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল তৌহিদের ছোট ভাই পুলিশ সদস্য পিকুলের। বিয়ে দুটির খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা নিজেই পিকুলকে ফোন করে ভাইসহ তার বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ইউএনওর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রবিবার যশোর নোটারি পাবলিকের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের ঘোষণা দেন আশাদুজ্জামান।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, পুলিশ সদস্যের বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানার পর আমি নিজে তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি এই বাল্যবিয়ে করবেন না বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ এবং জগদীশপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাছেও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ তিনি ১৪ আগস্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সেই কাগজপত্র আমাদের কাছে এসেছে। শুনেছি তার বড় ভাইও আরেক নাবালিকাকে বিয়ে করেছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।

Back to top button