শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রতিবেশি ও এলাকাবাসী ‘নিশ্চুপ’

নাটোরে কলেজ শিক্ষিকা নাজনীন নাহারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চলছে তোলপাড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও বহিরাত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভীড় শহরের বলারিপাড়ায় তাদের ভাড়া বাড়ির সামনে। ভীড় করছেন প্রতিবেশি ও এলাকাবাসীরা। তবে তাদের কেউ গণমাধ্যমের সামনে কোন কথা বলছেন না।

রোববার (১৪ আগস্ট) সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও তাদের বাড়ির সামনে ভীড় কমেনি৷ উৎসুক জনতার ভীড় সামাল দিতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, যে বাড়িতে ওই দম্পতি বসবাস করেন সেই বাড়ির মালিক তানভীর আহমেদ। বাড়িতে ওই দম্পতিসহ আরো সাত ভাড়াটিয়া বসবাস করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন বিচারক, আইনজীবী, দুইজন ব্যাংকার, একটি বেসরকারি কোম্পানীর জেলা ব্যবস্থাপক ও দুইজন শিক্ষক। ঘটনার পর ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াদের কারোই বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বা পেছনে কোনো কথাই বলতে চাননি।

এছাড়া, তাদের প্রতিবেশিরা এ ঘটনায় উৎসুক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ রাখলেও তারাও কোনো কথা বলেননি। শুকুর আলী নামের এক চা দোকানী ওই বাড়ির অদুরে চা বিক্রি করেন। ঘটনা কিছু জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে চাননি। আসমা খাতুন নামে এক প্রতিবেশির নিকট ঘটনা জানতে চাইলে তিনিও কিছু জানেন না বলে সরে যান বাড়ির সামনে থেকে।

এর আগে বিয়ের আট মাসের মাথায় রোববার সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্বামী মামুনকে আটক করেছে পুলিশ।

ভবনের বাসিন্দা ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার ভোরে স্বামী মামুন ভবনের অন্য বাসিন্দাদের জানায় তার স্ত্রী খায়রুন নাহার শেষ রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। লোকজন তার বাসায় গিয়ে খায়রুন নাহারের মরদেহ মেঝেতে শোয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। তারা মামুনকে বাসার মধ্যে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

Back to top button