সাবেক স্বামীর ফোন, মামুনের বাজে আচরণের শিকার সেই শিক্ষিকা

আগস্ট মাসের ১ তারিখ সাংবাদিকদের কাছে মামুন বলেছিলেন, ‘মন্তব্য কখনো গন্তব্য ঠেকাতে পারে না।’ এই বক্তব্যের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় কলেজশিক্ষক খায়রুন নাহারের জীবন প্রদীপ নিভে গেল। আর এ নিয়েই মামুনকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে অনেক উত্তর নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছে পুলিশ। বিকেলে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ মহসীন।

এলাকাবাসী জানায়, নিজের আয় না থাকায় মামুন তার স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। মামুনের লেখাপড়ার যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য নাটোর শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন খায়রুন। তিনি ৩৫ কিলোমিটার দূরে কলেজে প্রতিদিন যাতায়াত করতেন এই ভাড়াবাসা থেকেই। এছাড়া মামুনকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন খায়রুন।

এলাকাবাসী আরও জানান, সাবেক স্বামী খায়রুনকে প্রায় প্রতি রাতেই কল দিতেন। এনিয়ে মামুনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল তাদের। ফোনের বিষয় নিয়ে মামুন খায়রুনের সঙ্গে বাজে আচরণ করতেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ মহসীন জানান, নানা দিক নিয়ে খায়রুনের দ্বিতীয় স্বামী মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রাত ২টায় কেন তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, সে বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উত্তর দিচ্ছেন মামুন।

এদিকে মোটরসাইকেলটি কিস্তিতে কিনে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মামুন। এছাড়া রাতে খায়রুনের কাছে সাবেক স্বামীর ফোন আসত বলে মামুন স্বীকার করলেও এ নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ মহসীন আরও বলেন, প্রতিবার জিজ্ঞাসাবাদে মামুন দাবি করেছে, খায়রুন নাহার আত্মহত্যা করেছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে মামুনকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

Back to top button