‘সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার ভয়ে নাকি দুধ খাওয়াই না’

শাহানাজ খানমের সন্তান যখন দুই মাস বয়স থেকে ফিডারে দুধ খাওয়া শুরু করে তিনিও তখন রিক্তা মণ্ডল এবং শিউলী খাতুনের মতো বাজে মন্তব্যের মুখোমুখি হন।
শারীরিক নানা কারণে নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে ব্যর্থ হলে মায়েদের শুনতে হয় কটু মন্তব্য।

এ বিষয়ে কয়েকজন মায়ের সঙ্গে কথা বলে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তারা জানিয়েছেন প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা।

দুই সন্তানের মা রিক্তা মণ্ডল ঢাকায় বাস করেন। তার প্রথম সন্তানের বয়স তিন আর দ্বিতীয় সন্তানের বয়স মাত্র ১০ মাস। শারীরিক জটিলতায় দুই সন্তানকেই বুকের দুধ দিতে ব্যর্থ হন তিনি। যা তাকে বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে।

রিক্তা বলছিলেন, “আমার শারীরিক কারণেই সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারি না। কিন্তু এজন্য প্রতিবেশিদের অনেকে আমাকে ছোট করে কথা বলে। কেউ কেউ বলে সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ালে নাকি মা-ই হওয়া যায় না। আবার অনেকে বিশ্রী ভাষায় বলে আমি নাকি শারীরিক সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়ার ভয়ে আমার মেয়েদের বুকের দুধ খাওয়াই না।”

ঢাকায় বাস করা আরেক মা শিউলী খাতুন একটি দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। এ বছরের মার্চে তিনি জমজ সন্তানের মা হন। জন্মের পর প্রথম এক মাস বুকের দুধে তার সন্তানদের চাহিদা পূরণ হলেও এরপর থেকে হচ্ছিল না। তাই তিনি শিশুদের বাইরের খাবার খাওয়ানো শুরু করেন। তাই তাকেও শুনতে হয়েছে কটু কথা।

শিউলী বলেন, “আমার প্রথম দুই সন্তান ছয় মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খেয়েছে। কিন্তু জমজ হওয়ায় আমার ছেলেরা ঠিক মতো খাবার পাচ্ছিল না, তাই আমি তাদের পুষ্টির কথা ভেবে বাইরের খাবার দেওয়া শুরু করি। অনেকেই বিষয়টা বুঝতে পারে, তবে কেউ কেউ আছে যারা এটাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছে।”

শাহানাজ খানম নামে আরেক মায়ের সঙ্গেও ঘটেছে একই বিষয়। তার সন্তান যখন দুই মাস বয়স থেকে ফিডারে দুধ খাওয়া শুরু করে তিনিও তখন রিক্তা মণ্ডল এবং শিউলী খাতুনের মতো বাজে মন্তব্যের মুখোমুখি হন।

তিনি বলেন, “আমার মেয়ের দুই মাস বয়সে আমি যখন ফিডার খাওয়ানো শুরু করি তখন অনেকে অনেক রকম কথা বলত। তাদের অনেকেই কথাগুলো আমার আড়ালে বলত যেগুলো আমার কানে আসলে আমি খুব কষ্ট পেতাম। আমি অনেককে আমার সমস্যাটা বোঝানোর চেষ্টা করতাম। কেউ কেউ বুঝলেও বেশিরভাগই বুঝতে চায়নি যে, ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন ছিল।”

Back to top button