কখনও মদ-সিগারেট স্পর্শ করিনি: জায়েদ খান

বাংলায় একটা জনপ্রিয় প্রবাদ আছে— যত দোষ নন্দঘোষ। তার মানে, যে যত দোষ করুক না কেন, সব নন্দঘোষের ঘাড়েই এসে বর্তায়। চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিষয়টাও যেন ঠিক তেমন। সিনেপাড়ায় কিছু ঘটলেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয় তার দিকে।

জায়েদের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ নয়। আঙুলের কর গুনে বলে দেওয়া যায় সিনেমার সংখ্যা। তার অভিনীত কোনো সিনেমাই পায়নি ব্যবসায়িক সফলতা। যদিও এসব নিয়ে তার তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপ দেখা যায় না। সাংগঠনিক দিকেই তার মনোযোগ!

জায়েদ খানের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অভিযোগ হলো, তিনি শিল্পী সমিতির অফিসে রাতে মদের আড্ডা বসাতেন। অভিযোগটি শুনে হাসলেন জায়েদ।
দুই মেয়াদে পালন করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। তৃতীয় দফায়ও ভোটে একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তবে সেটা নিয়ে প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণের সঙ্গে চলছে জটিলতা। তবে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন জায়েদ খানের পক্ষে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন নিপুণ।

দায়িত্ব পালনকালে জায়েদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, সমিতির কার্যালয়ে মদের আড্ডাসহ নানা ধরনের অভিযোগ আনা হয় জায়েদের বিরুদ্ধ। এসব অভিযোগ এনেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

যদিও জায়েদ খান এসব অভিযোগ আমলে নেন না কখনও। বরং ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেন। তিনি মনে করেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

জায়েদ খান বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার বিষটির সঙ্গে আমি পরিচিত নই। রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি তো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শিল্পী সমিতিতে আমি শিল্পীদের সেবক মাত্র। আমি অভিনয় করতে এসেছি। যারা বড় বড় জায়গায় নেতৃত্ব দেন তারা ভালো বলতে পারবেন ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে। শিল্পীরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের সেবা করার জন্য। তাদের সেবা করি। আমাদের কথাই ছিল, সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীদের নিয়ে মিলনমেলার মতো করা। আমি সেটাই করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিইবা ক্ষমতা এখানে, কিইবা ক্ষমতার অপব্যবহার এখানে— আমার মাথায় আসে না। যদি ক্ষমতার অপব্যবহারই করতাম তাহলে কেউ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করতেন না। এর থেকে শিল্পীদের জিজ্ঞেস করুন। যেসব কিংবদন্তি শিল্পীদের হাতে শিল্পী সমিতি গড়ে উঠেছে, তাদের কাছে জিজ্ঞেস করুন। উত্তর পেয়ে যাবেন। আমি সবাইকে যার যার প্রাপ্য সম্মান দেই। মিডিয়ার সামনে শিল্পী সমিতির এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা আমার কাছে সমিচীন মনে হয় না। শিল্পী সমিতি আমরা একটি পরিবার। তাছাড়া সারা জীবনের এই চেয়ার না।’

আর্থিক অনিয়ম প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সমালোচিত এই নায়ক। জায়েদ বলেন, ‘শিল্পী সমিতির জেনারেল মিটিংয়ে শিল্পীরা আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দেবেন। নিয়মিত অডিট করা হয়। আয়-ব্যয়ের হিসাব হয়। তারপর সেই হিসাব জেনারেল মিটিংয়ে দেখাতে হয়। তখন শিল্পীদের যদি সন্দেহ হয়, তখন প্রশ্ন করতে পারেন। এর বাইরে কেউ কথা বলার এখতিয়ার রাখেন না। আমাদের শিল্পী সমিতি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো আয়ের উৎস নেই। পরিচালক সমিতিতে নাম নিবন্ধন করতে গেলে টাকা দিতে হয়। প্রযোজক সমিতিতে প্রযোজক হতে হলে লক্ষাধিক টাকা দিতে হয়। আমাদের এমন কোনো নিয়ম নেই। কেবলমাত্র মাসিক এক শ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এখানে তো আর্থিক অনিয়মের কোনো প্রশ্ন আসে না।

জায়েদ খানের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অভিযোগ হলো, তিনি শিল্পী সমিতির অফিসে রাতে মদের আড্ডা বসাতেন। অভিযোগটি শুনে হাসলেন জায়েদ। তারপর জানালেন, তিনি জীবনে কোনোদিন মদ স্পর্শ করেননি। তার কথায়, ‘আমি কোনোদিন সিগারেট-মদ স্পর্শ করিনি। এটা পুরো ইন্ডাস্ট্রির মানুষ জানেন। কেন যে এই মদের প্রশ্ন আসলো জানি না! যেহেতু মদ্যপান করি না, সেহেতু আসর বসানোর প্রশ্নই আসে না। কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না।’

জায়েদ বলেন, ‘এ ধরনের মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে শুধু একজন শিল্পীকে ছোট করা হয় না, পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে ছোট করা হচ্ছে। শিল্পী সমিতির অফিসে আমি কোরআন শরিফ-জায়নামাজ রেখেছি। জুমার নামাজ শেষে কোরআন তিলাওয়াত করতাম। এমন একটি পবিত্র জায়গায় মদের আসর বসানোর কথা তো কল্পনাও করা যায় না।’

এ সময় জায়েদ দাবি করেন, তার হাত ধরেই শিল্পী সমিতির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর সেজন্য বাইরের মানুষের চোখে লেগেছে। তিনি মনে করেন, শিল্পীরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব। তাই অবিলম্বে রেষারেষি বন্ধের আহ্বান তার।

Back to top button