স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেড় মাসের কন্যাকে পুকুরে ফেলে দিলো মা

সোহেল-হিমা দম্পতি। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মো. মোক্তার মেলকারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ২০১৬ সালে একই উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের মৃত হালিম আকনের কন্যা হিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে তিন বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হলে বাদুরতলা গ্রামে বাবার বাড়ি যান হিমা আক্তার। মাস দেড়েক আগে সেখানে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন।

কন্যা (৪৩ দিন) সন্তানের মরদেহ পুকুর থেকে পাওয়ার পরে বাবার করা মামলায় মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, স্বপ্নাদেশ পেয়েই নিজের সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন মা। শিশুটির বাবা দাবি করছেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কোনো কলহ ছিল না বা তিনি মানসিকভাবে অসুস্থও নন। তবে তিনি কেন এমনটি করলেন তা কেউ ধারণা করতে পারছেন না।

পুলিশ গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে হিমা আক্তারকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। আজ মঙ্গলবার তাঁকে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন হিমা আক্তার।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ জানান, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন হিমা আক্তার। শিশুর নাম রাখা খাদিজা ইসলাম রুকাইয়া (বয়স ৪৩ দিন)। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে তিনি পুকুরে ফেলে দেন। বেলা ১২টার দিকে মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন হিমা আক্তার। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশে পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে শিশুর বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

রহস্য উদ্‌ঘাটনের বিষয়ে এসআই হারুন অর রশিদ বলেন, ‘৪৩ দিনের শিশু তো হামাগুড়ি দিয়ে পুকুরের পানিতে পড়তে পাড়ে না। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা নিয়ে তদন্ত শুরু করি। সোমবার রাতে শিশুটির মা হিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তানকে পুকুরে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। গৌরনদী থানা হাজতে হিমা আক্তার জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, আমি স্বপ্নে নির্দেশ পেয়ে ওকে হত্যা করেছি। স্বপ্নে আমাকে বলা হয়, ও থাকলে পরিবারের অকল্যাণ হবে।’

শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী সুস্থ ও স্বাভাবিকই ছিল। তার কোনো মানসিক সমস্যা নেই, স্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো দাম্পত্য কলহ বা মনোমালিন্য ছিল না কিন্তু কেন সে এ ধরনের কাজ করেছে তা জানি না।’

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘সোমবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদে হিমা আক্তার সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বরদুলালী গ্রামে মা ছালেহা বেগম (৩৪) নামে এক নারী সাড়ে তিন মাসের সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। স্বামী সাগির হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে স্ত্রীকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় ছালেহাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করেন। ছালেহা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।

Back to top button