আজ থেকে মেয়ে মুক্তির সঙ্গেই থাকবেন আনোয়ারা

এবারের ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের ‘দুঃখিনী মা’ অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ব্যক্তিজীবনে ভীষণ একাকিত্বে ভুগছেন তিনি। গত বছর ১০ ডিসেম্বর মারা যান তাঁর স্বামী মহিতুল ইসলাম। এরপর থেকে বাসায় একাই থাকতেন আনোয়ারা।

একমাত্র মেয়ে অভিনেত্রী রুমানা মুক্তি অবশ্য প্রতিদিনই খোঁজ খবর রাখতেন মায়ের। কিন্তু গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেন আলাদা বাসা নয়, এবার নিজের বাসাতেই মাকে এনে রাখবেন মুক্তি। প্রথমে মেয়ের সিদ্ধান্ত না মেনে নিলেও পরে অবশ্য রাজি হয়েছেন। আর তাই গত দুই দিন ধরে মায়ের বাসার আসবাবপত্র নিজের বনশ্রীর বাসায় স্থানান্তরিত করেন মুক্তি। অবশেষে আজ মাকেও বাসায় এনেছেন।

kalerkantho

মুক্তিকে আদর করছেন মা আনোয়ারা।  আজ থেকে মেয়ে মুক্তির সঙ্গেই থাকবেন আনোয়ারা।

মুক্তি বলেন, ‘আমার মা অনেক শক্ত মানুষ। প্রচুর পরিশ্রম করতে পারেন। অল্পতে ভেঙে পড়ার মানুষও নন। তারপরও বয়স হয়েছে তাঁর। এই সময়ে আলাদাভাবে দেখাশোনা করা উচিত। আমার সন্তানের সঙ্গে মায়ের ভালো সময় কাটবে। বাসায় কাজের মানুষও আছে। ফলে আমি নিশ্চিন্তে বাইরের কাজে মন দিতে পারব। সারাক্ষণ আর দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। ’

kalerkantho

‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবিতে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আলেয়ারূপী আনোয়ারা। ঢাকাই ছবির কালজয়ী এমন অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

মেয়ের বাসায় উঠতে প্রথমদিকে আনোয়ারা খুব সঙ্কোচবোধ করেছিলেন বলেও জানান মুক্তি। বলেন, ‘মা কখনো অন্যের দ্বারস্থ হতে পছন্দ করেন না। তিনি মনে করেন মেয়ের বাসায় উঠলে পাছে লোকে আবার কী বলবে!কিন্তু মাকে বোঝালাম, আসলে আমি ছাড়া তাঁর তো আর কেউ নেই। এখন না হয় শক্ত আছে, দুদিন পরে কী হবে! অবশেষে মা সব বুঝলেন। আমার কথায় রাজি হলেন। ’

Back to top button