হাজতখানায় সেলফি তুলে ভাইরাল হওয়া দুই ছাত্রলীগ নেতার জামিন

আদালতের হাজতখানায় সেলফি তুলে ভাইরাল হয় দুই ছাত্রলীগ নেতা। তারা বরগুনার বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন জনি। বরগুনা আদালতের হাজতখানায় লফি তুলে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহবুব আলমের কাছে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান পান্না এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে আদালতের হাজতখানায় বসে আসামিরা সেলফি তোলার বিষয়ে পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার মামলায় মঙ্গলবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বামনার বিচারক মো. রাসেল মজুমদারের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের হাজতখানায় থাকাকালে তারা সেলফি তুলে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লেখেন, নৌকার নির্বাচন করতে গিয়ে কারাবরণ করতে হলো আমাদের। এ ছাড়া আদালতের বিচারকের এজলাসের কাঠগড়ায়ও ছবি আপলোড করেন।
আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান পান্না বলেন, বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির মা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তির কাগজপত্র এবং সাধারণ সম্পাদকের আগামীকাল এলএলবি পরীক্ষার কাগজপত্র আদালতে দাখিল করে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তাদের জামিন দেন।

মামলার বাদী তারিকুজ্জামান সোহাগ বলেন, আসামিরা পদধারী, তাদের জামিন হয়েছে। আমি ভয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছি না, আমি অনিরাপদ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) এস এম তারেক রহমান বলেন, আদালতে সেলফি তোলায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে।

এর আগে গত বছর জুনে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণার সময় বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী তারিকুজ্জামান সোহাগ ও বামনা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক কর্মী আহত হয়।

সে সময় পুলিশের দায়ের করা মামলায় কারাগারে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহাগ। পরে তার স্ত্রীর সহায়তায় সেখানে থেকেই বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন জনিকে প্রধান আসামি ও সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়াকে ২ নম্বর আসামি করে ২৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন সোহাগ। সেই মামলায় মঙ্গলবার তাঁদের দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক মো. রাসেল মজুমদার।

Back to top button