পাঁচ সন্তান হারিয়ে নির্বাক মা, পাশে দাঁড়ালেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রয়াত বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে পিকআপ চাপায় ৫ সন্তান হারিয়ে নির্বাক মৃণালিনী সুশীল। শুধু ৫ সন্তান হারানোর কষ্ট নয়, অপর সন্তান রক্তিম শর্মা সুশীল ও কন্যা হীরা শর্মা সুশীল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া আরেক সন্তান প্লাবন শর্মা সুশীলও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় নির্বাক পুরো পরিবারের আত্মীয়স্বজন, পাড়া-পড়শি। সর্বত্র বিষাদের ছায়া। ৫ স্বামীর প্রয়াণে তাদের স্ত্রীরাও হয়েছেন বিধবা।

এমতাবস্থায় শোকাহত পরিবারকে দেখতে গেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) মো. রফিকুল ইসলাম।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এডিশনাল এসপি রফিকুল ইসলাম শোকাহত ওই পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, নিহত পাঁচ ভাইয়ের পরিবারের পাশে থাকবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

এ সময় এডিশনাল এসপি রফিকুল ইসলাম কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানের পক্ষ থেকে নিহত পাঁচ ভাইয়ের মা মানু বালা শীলের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে একলাখ টাকা তুলে দেন।

এছাড়া জেলা পুলিশের মাধ্যমে পুলিশের সাবেক ডিআইজি শৈবাল দাশ ও সানন্দা জুয়েলার্সের মালিক রনজিত ঘোষের পক্ষ থেকেও মানু বালার হাতে আরো ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন এডিশনাল এসপি রফিকুল ইসলাম।

শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় এডিশনাল এসপি রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি পরিবারে একসঙ্গে পাঁচ ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত। যেহেতু সংগঠিত দুর্ঘটনার মূলহোতা পিকআপ চালক গ্রেফতার হয়েছে, আদালত তাকে রিমান্ডে দিয়েছে, আমরাও চাই তার যথাযথ শাস্তি হোক।

তিনি শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ি চালকের দায় থাকলে কোনোভাবেই পার পাবে না। আপনারা শোককে শক্তিতে পরিণত করে জীবনধারণে চেষ্টা করুন, মহান আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক। মনে রাখবেন জেলা পুলিশ আপনাদের পাশে আছে।

এ সময় এডিশনাল এসপি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো. তফিকুল আলম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনী, চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার এসআই রাজীব চন্দ্র সরকার, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর, সদস্য ফখরুউদ্দিন, রফিক আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোহাম্মদ ফোরকান প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা মালুমঘাট স্টেশনের অদূরে বনবিভাগের নার্সারি এলাকায় বেপরোয়া গতির পিকআপচাপায় পাঁচ ভাই নিহত হন।

নিহতরা হলেন- অনুপম শীল (৪৫), নিরুপম শীল (৩৮), দীপক শীল (৩৬), চম্পক শীল (৩৬) ও স্বরণ শীল (২৮)।

একই ঘটনায় তাদের বোন হীরা শীল (২৭) ও অপর দুই ভাই রক্তিম শীল (৩৫) ও প্লাবন শীল (২৪) গুরুতর আহত হন। হতাহত সবার বাড়ি ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের হাসিনাপাড়া গ্রামে। তারা ওই গ্রামের মৃত সরোজ চন্দ্র শীলের সন্তান।

Back to top button