চড়ুই-ভাতির কলাপাতায় ফিরে এলো শৈশবের রোমাঞ্চকর স্মৃতি

কবির ভাষায়- ‘ছোট্টবেলার ছোট্ট হাঁড়ি, ছোট্ট থালাবাটি/ চড়ুইভাতির আয়োজনে তুমুল হল্লাহাটি। মাকে ফাঁকি দিয়ে নিতাম কোঁচড় ভরে চাল/ পেঁয়াজ রসুন কাঁচা লঙ্কা মুষ্টি ভরে ডাল।’
শৈশবে এমনভাবে চড়ুই-ভাতি করেননি এমন কাউকে খোঁজে পাওয়া খুব মুশকিল। কালের পরিক্রমায় কৈশোর আর তারুণ্যে আজ সেসব শুধুই স্মৃতি। সময়ের স্রোতে এমন স্মৃতিতে হয়তো ধুলো জমে গেছে, তবুও স্মৃতির চিত্রকল্পে তা আজো নাড়া দেয়।

তাই পুরোনো সে স্মৃতিকে রোমন্থন করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তাপসী রাবেয়া হলের গ-ব্লকের ছাত্রীরা আয়োজন করেছে চড়ুই-ভাতি। রান্নার প্রয়োজনীয় উপাদান তারা সংগ্রহ করেছে নিজের রুম থেকেই। যাকে বলা যায় ‘রুম বাজার’। কারো রুম থেকে চাল, কারো রুম থেকে ডাল, লবণ, ডিমসহ আরো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে হয় চড়ুইভাতি।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ শেষে হলের বাগানে রান্না করার পরিকল্পনা করেছিলো তারা। তবে প্রকৃতি অনকূলে না থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি। তাই রুমেই রান্না করেছেন তারা। রান্নায় তারা সাহায্য করেছেন একে অপরকে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী স্বর্নালী আক্তার বলেন, ছোটবেলায় আমরা যেভাবে খোলা জায়গায় রান্নার আয়োজন করে চড়ুই-ভাতি করতাম ঠিক সেভাবেই করার পরিকল্পনা ছিলো। তাই আমরা হলের ফুল বাগানে রান্না করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রচন্ড বাতাস থাকায় তার আর সম্ভব হয়নি। তাই রুমেই রান্না করতে হয়েছে।

এবার রান্না শেষে সবাই চলে আসে হলের ফুল বাগানে। কারো হাতে রান্না করা খাবারের পাতিল, কারো হাতে খাবারের প্লেট। তবে তাদের একজন বললো, আমরা প্লেটে খাবো না। আমাদের খাওয়া হবে কলাপাতায়। ছোটবেলায় চড়ুই-ভাতিতে যেভাবে কলাপাতায় খাবার খেতাম ঠিক সেভাবেই খাবো। বাকি সবাই মেনে নেয় এই প্রস্তাব। কলাপাতায় পরিবেশন করা হয় খাবার।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী স্বর্ণালী আক্তার বলেন, ছোটবেলায় আমরা যখন চড়ুই-ভাতি করতাম সাধারণত কলা পাতায় খাবার খাওয়া হতো। কলাপাতায় খাওয়ার কারণ হলো আমরা ছোটবেলার সেই স্মৃতিতে স্বল্প সময়ের জন্য ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। পুরো আয়োজনে আমরা শৈশবের সেই চড়ুই-ভাতির আনন্দটা পেয়েছি।

অনুভূতি জানিয়ে হলের আবাসিক ছাত্রী দোলা বলেন, একদম ব্যতিক্রমী একটা আয়োজন ছিলো। সবার সহযোগিতা এবং আর আপুদের একাত্মায় তৈরি হয়েছে মেলবন্ধন। কলাপাতায় খাওয়ার আইডিয়াটা ছিলো আরো দারুণ। একটু সময়ের জন্য হলেও ফিরে গিয়েছিলাম ছোটবেলার স্মৃতিতে।

Back to top button