শেষ পর্যন্ত জেলে যেতেই হচ্ছে হাজী সেলিমকে

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিচারিক আদালতের ১৩ বছরের দণ্ড থেকে কমিয়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের স্বাক্ষরের পর এ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিশেষ জজ আদালত-৭ এ আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার জামিননামা বাতিল করে তার বিরুদ্ধে যেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ফলে রায়ের নির্দেশনা অনুসারে, শেষ পর্যন্ত জেলে যেতেই হচ্ছে হাজী সেলিমকে।

হাজী মো. সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, এর আগে হাইকোর্টের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন হাজী সেলিম। আজ থেকে ৩০ দিন গণনা শুরু হতে পারে বলেও জানান সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী। সে হিসেবে আলাপ আলোচনা করে আত্মসমর্পণের দিন ঠিক করা হবে। এরপর আপিল আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায় প্রকাশের পর এমন তথ্য জানিয়েছেন হাজী সেলিমের আইনজীবী।

সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, হাইকোর্টের রায়ে সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে এক মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে সুপিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করবো।

আজ (বৃহস্পতিবার) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৬ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করা হয়। এ রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস পান তিনি। রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের দণ্ডের মামলার আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৯ মার্চ দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লালবাগ থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার সাজা বাতিল করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।

Back to top button